একই সঙ্গে বসবাসকারী কয়েকজন ব্যক্তির সমষ্টিকে পরিবার বলে।
আর্থিক ও পেশাগত পরিবর্তন, সম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ নীতি ইত্যাদি কারণে যৌথ পরিবারে ভাঙন দেখা দিয়েছে ।
গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলো মূলত যৌথ পরিবার ছিল। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে মানুষ নগরমুখী হচ্ছে এবং তাদের পেশার পরিবর্তন হচ্ছে। শহরাঞ্চলে সীমিত আয় ও বাসস্থান সমস্যার কারণে যৌথ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-১ এর পরিবার অর্থাৎ কৃষিনির্ভর যৌথ পরিবারের জীবন-জীবিকা মূলত কৃষিভিত্তিক।
গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলোতে যৌথ পরিবার প্রথা বেশি দেখা যায়। এ ধরনের পরিবারে কর্তার সাথে তার বাবা-মা, এক বা একাধিক ভাই, বোন ও তাদের সন্তান-সন্ততি বা দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু একত্রে বাস করে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ কৃষিনির্ভর যৌথ পরিবার দেখা যায়। এ ধরনের পরিবার গ্রামাঞ্চলে বেশি লক্ষ করা যায়। এ পরিবারের লোকেরা জীবিকার জন্য সাধারণত কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হয়। কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে বলেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দাদা থেকে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেও চাষাবাদ করে। এভাবে ক্রমেই পরিবার বড়ো হতে থাকে। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে এ ধরনের পরিবারের ক্ষমতা পিতার হাতে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত যথাক্রমে যৌথ ও একক পরিবারের মধ্যে তুলনামূলক ভিন্নতা লক্ষণীয়।
স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। অন্যদিকে, রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি একক পরিবার নিয়ে যৌথ পরিবার গঠিত হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ যৌথ পরিবার ও দৃশ্যকল্প-২ এ একক পরিবারকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যৌথ পরিবার বেশি দেখা যায়। কিন্তু শহরাঞ্চলে আয় ও বাসস্থান সীমিত হওয়ায় এখানে একক পরিবারের সংখ্যা বেশি। গ্রামীণ যৌথ পরিবারগুলো সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। শহুরে একক পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের যৌথ পরিবারের ক্ষমতা পিতার হাতেই বেশি লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে, শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নেতৃত্ব কেবল স্বামীর হাতেই ন্যস্ত থাকে না।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখানে স্বামীরা স্ত্রীর মতামতের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, যৌথ ও একক পরিবারের মধ্যে গঠন, ধরন ও কার্যাবলিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allযে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবশিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ হলেন মা-বাবা। আবার এই দুজনের মধ্যে অধিকতর কাছের মানুষ হলেন মা। শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মার কাছ থেকেই। শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম 'মা'। মা যেভাবে শিশুকে বর্ণ, শব্দ, ছড়া ইত্যাদি শেখাবেন, শিশু ঠিক সেভাবেই শিখবে। এ কারণেই 'মা'-কে শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম বলা হয়।
জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
পরিবার একটি চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন। এই পরিবারের রয়েছে বিভিন্ন রূপ। এর মধ্যে অন্যতম রূপ হলো একক পরিবার ব্যবস্থা। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। আবার সন্তান উপযুক্ত হলে বিয়ে করে আলাদা পরিবার গঠন করে। তখন আরেকটি নতুন একক পরিবার গঠিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জেরিনদের বাসায় তার মা-বাবা ও ছোটো ভাই থাকে। অর্থাৎ জেরিনের বাবা-মা এবং তারা দুই ভাইবোন মিলে একটি পরিবারে বাস করে। জেরিনদের এই পরিবারের রূপটি একক পরিবার ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন প্রক্রিয়া, যা মানব শিশুকে ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত করে। শিশুর এই সামাজিকীকরণে বিভিন্ন মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেমনই একটি মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। আকারের ভিত্তিতে পরিবার একক ও যৌথ প্রকৃতির হয়। আর সদস্য সংখ্যার তারতম্যের কারণে শিশুর সামাজিকীকরণে উক্ত দুই ধরনের পরিবারের ভূমিকায়ও পার্থক্য দেখা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই শিশুর 'নিজ' ও 'অপর' সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। যা তার আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে। তাই পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশি হয়। শিশুর ভাবের আদান-প্রদানও তত বেশি হয়। ফলে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ঘটে। এ প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের জেরিন একক পরিবারে বাস করায় কেবল তার বাবা-মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন গুণ শিখতে পারবে। অন্যদিকে, মেহরিমাদের বাসায় তার চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অনেকে একত্রে বাস করে। রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি পরিবারের এই একত্রে বসবাস যৌথ পরিবারকে নির্দেশ করে।
যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচিসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে শিশুর পারস্পরিক আচার-আচরণিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব আচার-আচরণিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণ অর্জন করার সামাজিক শিক্ষা পায়। যা শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। আকারের ভিত্তিতে জেরিন ও মেহরিমাদের পরিবার যথাক্রমে একক ও যৌথ প্রকৃতির হওয়ায় সামাজিকীকরণে পরিবার দুটির ভূমিকায় পার্থক্য রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, জেরিনদের পরিবারের তুলনায় মেহরিমাদের পরিবার শিশুর সামাজিকীকরণে বেশি ভূমিকা রাখে।
শিশু একটি পরিবারে তথা সমাজে যেভাবে সামাজিক হয়ে গড়ে ওঠে তাকেই সামাজিকীকরণ বলা হয়।
বর্তমান সময়ে পরিবার ছোটো হয়ে যাওয়ায় এবং বাবা-মা উভয়ের ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আগে সাধারণত পরিবারের মধ্যেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হতো। সম্প্রতি দেখা যায়, ইউটিউবে বা ফেসবুকের অসমর্থিত সূত্র থেকে শিশুকে ধর্মশিক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে শিশুর মধ্যে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে না। ফলে ধর্ম মানুষের জীবনে যে মানবিক, নৈতিক গুণ তৈরি করে সে গুণ তৈরি হচ্ছে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!